ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভারে গাছভর্তি একটি ট্রাককে পেছন থেকে মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা মাছবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপার বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি যশোর সদরের চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামিম (৩০)। তিনি মাছবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন। নিহত অপর হেলপারের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাক আতাদি ফ্লাইওভারের ওপর ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা মাছবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাছবাহী ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপারের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক জব্দ করে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সোহেল খান জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরও এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে গত চার দিনে একই এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন চালক ও হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগই নষ্ট বা ধীরগতির যানবাহনের পেছনে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় ঘটেছে।
হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতিরিক্ত গতি, ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং এক্সপ্রেসওয়েতে বিকল গাড়ি মেরামতের সময় পর্যাপ্ত সতর্কতা না থাকায় এসব দুর্ঘটনা বাড়ছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মিয়া বলেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই রাতে বা ভোরে ঘটছে। চালকদের অসতর্কতা ও ঘুমের কারণে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িকেও চলন্ত মনে করে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

