যশোরের শার্শা উপজেলায় পুলিশ সদস্যকে মারধরের মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতার করতে গিয়ে মবের মুখে পড়েছে পুলিশ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের জড়ো করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদস্য মামুন হাসানকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতারের জন্য শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে থানা ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। গ্রামটির একটি মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় মিন্টুর সমর্থকরা গ্রামের কয়েকটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে মিন্টুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ ঘোষণার পরপরই বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন এবং পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন দায়ের হওয়া একটি মামলায় মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী পুলিশ সদস্য মামুন হাসানের ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ মে বিকেলে মোটরসাইকেলে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে মামুন হাসানের পথরোধ করে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তফা কামাল মিন্টু। তিনি বলেন, “পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় আমি জড়িত নই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ প্রভাবিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসেছে।
অন্যদিকে, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতারের সময় মব সৃষ্টি করে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

