আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও খেলোয়াড়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ম্যাচ চলাকালে দুই অর্ধে কুলিং বিরতির ব্যবস্থা রেখেছে ফিফা। তবে শুধু সেই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড দল।
গরমের প্রভাব কমাতে ইংল্যান্ড ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক ‘পাম-কুলিং’ প্রযুক্তি, যা হাতের তালু ঠাণ্ডা রেখে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ম্যাচ ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। জলবায়ুবিষয়ক গবেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ভেন্যুতে তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। কোনো কোনো দিনে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছুঁতে পারে।
ইংল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দলটি আগেভাগেই গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্প্রতি ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে অনুশীলন করেছে ইংলিশ ফুটবলাররা।
দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেনডারসন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে প্রথম সপ্তাহটি তারা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কাজে ব্যয় করছেন। পাশাপাশি দলের সাপোর্ট স্টাফরা কুলডাউন ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছেন, যাতে টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ সুবিধা পান।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে পাম-কুলিং প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর আগে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। গবেষকদের মতে, হাতের তালু ঠাণ্ডা রাখলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রুত কমে, ফলে খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং মাঠের পারফরম্যান্সও উন্নত হতে পারে।
আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। এরপর গ্রুপ পর্বে তারা ঘানা ও পানামার মুখোমুখি হবে।
গরম আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি বিশ্বকাপজুড়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

