ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক ও নিয়মিত রাত্রিযাপনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে পরীমনির করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। সেই সময় থেকেই পরীমনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে প্রথমে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) এবং পরে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় পরীমনির সঙ্গে পরিচয়ের পর নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয় সাকলায়েনের। ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথোপকথন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে তাদের সম্পর্ক সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত সম্পর্কের বাইরে ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট ভোর থেকে ২ আগস্ট রাত পর্যন্ত পরীমনি সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসায় প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন। ওই সময় সাকলায়েনের স্ত্রী বাসায় ছিলেন না।
তদন্তে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে পরীমনির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি ‘অসদাচরণ’ করেছেন। এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

