আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল–এর সমর্থকরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই দলকে অনুসরণ করেন। বিদেশের মাঠেও তাদের উপস্থিতিতে অনেক সময় মনে হয় যেন নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছে আর্জেন্টিনা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই সমর্থকদের একটি বড় অংশকে স্টেডিয়ামের বাইরে রাখতে চায় দেশটির সরকার।
আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের ভাষ্য, নিজের সন্তানের দায়িত্ব পালন না করে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশ নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া তালিকায় সহিংস অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হোর্হে মাক্রি এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, যারা দেশে নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন না, তাদের বিদেশের মাঠে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগটি ২০২৩ সাল থেকে বড় পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ১ হাজার ৩০০টির বেশি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শককে যাচাই করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেককে স্টেডিয়ামে প্রবেশেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমন্বয়কে আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশটির একাংশ এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এই উদ্যোগ শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং পরিবারকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করছে।

