ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আরিফ ও রাকিব। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের একটি আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহত শিশুটির নাম নিছামনি। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে অপহরণ ও নৃশংসতা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটি গ্রামের চার বন্ধু—আরিফ, রাকিব, মারুফ ও সায়েম গত কয়েক দিন ধরে ধর্ষণের পরিকল্পনা করছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় একই গ্রামের পাঁচ বছর বয়সী শিশু নিছামনিকে কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেয় তারা।
এরপর কংশ নদীর পাড়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে চার বন্ধু মিলে শিশুটিকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে রক্তাক্ত অবস্থাতেই তাকে নদীতে ফেলে দেয় পাষণ্ডরা।
লাশ উদ্ধারের পর রহস্য উদ্ঘাটন
নিখোঁজের পর দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে কংশ নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পরিবার। বাড়িতে এনে দাফনের উদ্দেশ্যে গোসল করানোর সময় শরীরে ধর্ষণের আলামত দেখতে পান স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম টুটনকে জানানো হলে তিনি পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল সন্দেহভাজন আরিফকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি তিন অভিযুক্ত—রাকিব, মারুফ ও সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্তদের পরিচয়:
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চার তরুণের মধ্যে একজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, একজন সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং বাকি দুজন পেশায় নির্মাণ শ্রমিক।
ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী, দ্রুত বিচারের আশ্বাস
এত ছোট একটি শিশুকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইতোমধ্যে সচেতন মহল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে নিন্দার ঝড়।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া এবং জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম। তারা উভয়ই অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচার হবে: জেলা পরিষদ প্রশাসক
এদিকে বুধবার (১৭ জুন) সকালে নিহত শিশুর বাড়িতে যান ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন,
“আমি ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। বহুল আলোচিত শিশু রামিসা হত্যার বিচারের মতোই এই অবুঝ শিশু নিছামনি হত্যার বিচারও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করা হবে।”
এছাড়াও ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বুধবার, জুন ১৭
Previous Articleছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, মোটরসাইকেল ছিনতাই
Related Posts
Add A Comment

