দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেন শুনানি শেষে তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রোববার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীন জানান, তারা যথাসময়ে আদালতে জামিনের আবেদন করবেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দি নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন মামলা দায়ের করেন। মামলায় সম্পাদক-প্রকাশকসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন— ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিবেদক মো. শামস ও জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসান।
বাদীর অভিযোগ, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উস্কানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
মামলায় দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে বগুড়া সদর থানা সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়া ডিবি পুলিশের এসআই রহমাতুল্লাহ মানিককে।
বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা উপজেলার বোর্ডবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে তদন্ত ছাড়াই সাংবাদিককে গ্রেফতারের ঘটনায় পেশাজীবী সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীন অভিযোগ করেন, অতি উৎসাহী পুলিশ তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তাকে গ্রেফতার করেছে। তিনি বলেন, কোনো মানহানিকর সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও সম্পাদক দায়ী হতে পারেন, তবে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রেজানুর ইসলামকে অপমানজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। রোববার আদালতে তার জামিন আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

