ঠাকুরগাঁওয়ের সদর, ভূল্লী ও রানীশংকৈল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং একজন বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঠাকুরগাঁও সদর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে নুসরাত জাহান ইতি (২২) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রানীশংকৈল উপজেলার দক্ষিণ সন্ধ্যারই গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, চাকরির সন্ধানে প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি ঠাকুরগাঁও শহরে ভাড়া বাসায় ওঠেন। গত ১৭ জুন পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।
স্বজনদের দাবি, ১৯ জুন রাতে ইতির এক বান্ধবী ফোন করে জানান, দুই দিন ধরে তিনি কক্ষ থেকে বের হচ্ছেন না এবং ফোনও ধরছেন না। পরে পরিবারের সদস্যরা ভাড়া বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা ইতিকে ওড়না দিয়ে জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ায় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলে পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ভূল্লী থানার কচুবাড়ি এলাকায় মাহাবুর রহমান (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুই সন্তানের জনক।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এতে আর্থিক ক্ষতির কারণে পরিবারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
নিহতের বাবা হারুন অর রশিদ পুলিশকে জানান, শনিবার গভীর রাতে তার ছেলে বমি ও পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহাবুর স্বজনদের জানান, তিনি রাতের দিকে তিনটি ইঁদুর মারা গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছেন। পরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়ও পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি।
এদিকে রানীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের উজধারী গ্রামে নাসির উদ্দিন (৬৭) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও সুস্থ হননি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তাকে খাবারের জন্য ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে ঘরের লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মরদেহ নামানো হয়।
সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানান, তিনটি ঘটনাতেই অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ বলেন, তিনটি ঘটনাই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।

