বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি এবং পরে হত্যা করে সেতুর নিচে লাশ গুমের ঘটনায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় অপরাধের সময় শিশু ছিল এমন পাঁচজনকে ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ, খাদাস ভাবুকনারপাড়ার সেলিম ইসলাম, খাদাস তালুকদারপাড়ার মেহেদী হাসান, খাদাস মাঠপাড়ার রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল এবং খাদাস ভোলাগাড়ীর সাগর মিয়া। এদের মধ্যে সাগর মিয়া ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।
এ ছাড়া আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সাজাপ্রাপ্তরা হলো— সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা গ্রামের প্রবাসফেরত এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই তাদের প্রতিবেশী ও পরিচিত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামি আবুল কালাম আজাদ মাঝেমধ্যে এনামুল হকের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এক লাখ টাকা দাবি করলে এনামুল হক তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
২০১৮ সালের ১৫ জুলাই রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশু রিফাত বাবার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহৃত হয়। পরে আবুল কালাম আজাদ রিফাতকে তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে জানিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
ঘটনার তিন দিন পর, ১৮ জুলাই সকালে শাজাহানপুর উপজেলার পোয়ালগাছা গ্রামের সিংহবাড়ি সেতুর নিচে কচুরিপানার ভেতর থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ পর্যায়ক্রমে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিল শিশু।
মামলার তদন্ত চলাকালে তিন শিশুসহ নয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে মাসুদ রানা নামে একজন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় যাবজ্জীবন ও সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার পরই এই সাজা কার্যকর হবে।
অপরদিকে অপরাধের সময় শিশু থাকা পাঁচজনকে শিশু আইনে ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, সবাই আগামী সাত দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ও সাজা পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর করা হয়।
বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আলী আসগার বলেন, আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রায় কার্যকরের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

