সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ডিনস ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। এর ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে এবং আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জটিলতা নিরসন হলে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষকদের বদলিপ্রক্রিয়া সহজ করতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করা হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার ডাটাবেজ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং সরকার দ্রুত তা সমাধানে কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে ৪ শতাংশ এবং আগামী চার বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

