পাবনার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মঞ্জু শেখ আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ ও চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা। তিনি বিএনপির একজন কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরতারাপুরের চর এলাকা জোতকাকুরিয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালেও এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন বালু আছে কি না তা দেখতে গেলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখ নিহত হন।
সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোকজন বালু তুলতে গেলে তার ভাতিজারা বাধা দিতে যায়। এ সময় কয়েকজন তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। প্রশাসনের তদন্তে যদি অবৈধ বালু উত্তোলন বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তার কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি দাবি করেন, বালু কাটার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

