রাজধানীর সুপারশপগুলোকে ভোক্তা-বান্ধবরূপে গড়ে তুলতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে সুপারশপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বপ্ন, আগোরা, ইউনিমার্ট, প্রিন্স বাজার, আমানা বিগবাজার, ট্রাস্ট ফ্যামিলি নীডস সুপার শপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভার শুরুতে পরিচালক, অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন, তাদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়মিত পর্যালোচনা করেন এবং প্রতিযোগিতামুলক মুল্যে পণ্য সরবরাহ করে ও ক্রমাগত ভোক্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনায় প্রয়াসী হন। ভোক্তা-স্বার্থ সংরক্ষণ করে ব্যবসা পরিচালিত হলে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ন্যায্যতাভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করে থাকে।
সভায় অধিদপ্তরের উপপরিচালকরা বাজার পরিদর্শনকালে ও নিজ নিজ কার্যালয়ে অভিযোগের শুনানিকালে সুপার শপসমূহের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় সেসব বিষয় তুলে ধরেন এবং এসব অভিযোগ নিজেরা উদ্যোগি হয়ে সমাধান করার ও সেবার মান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কার্যক্রম) আতিয়া সুলতানা, উপপরিচালক (অভিযোগ) মাসুম আরেফিন, উপপরিচালক (প্রচার ও প্রশিক্ষণ) আফরোজা রহমান, উপপরিচালক (তদন্ত) শাহনাজ সুলতানা, উপপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় বিকাশ চন্দ্র দাস, সহকারি পরিচালক (তদন্ত) নাসরিন সুলতানা, সহকারী পরিচালক (অভিযোগ) মো. শাহ আলম, সহকারি পরিচালক, ঢাকা জেলা কার্যালয় মো. হাসানুজ্জামান আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
সুপার শপসমূহের পক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তারা মতামতে বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে নিজ নিজ কাস্টমারদের ধরে রাখতে হলে সুলভমুল্যে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করার বিকল্প নেই। তারা তাদের পণ্য ও প্রদত্ত সেবার মান বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সভার সভাপতি বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন, অবৈধ পণ্য কিংবা নির্ধারিত মুল্যের অতিরিক্ত মুল্যে বিক্রি করার সুযোগ নেই। এগুলো দণ্ডনীয় অপরাধ। বিদেশি পণ্য বিক্রি করতে আমদানি সিল ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সিল থাকতে হয়। কিন্তু বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন অনলাইনে ও বিভিন্ন সুপারশপের ব্রান্ড ভ্যালু কাজে লাগিয়ে নকল পণ্য বিক্রি করছে মর্মে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। এক্ষেত্রে ভোক্তাগণ প্রতারিত হচ্ছেন ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সুপারশপগুলোকে নিজেদের স্বার্থেই পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে পণ্যের সঠিকতা যাচাই করে নিতে হবে।
সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রতিটি সুপারশপ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আউটলেট চেক করবেন, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য থাকলে তা অপসারণ করবেন ও আউটলেট পরিচালক কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করবেন ও তাদের জন্য ভোক্তা অধিকার আইনসহ অন্যান্য বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করবেন। চটকদার বিজ্ঞাপন দ্বারা ভোক্তাদের প্রলুব্ধ করা যাবে না এবং অফারে মানহীন পণ্য বিক্রি করা যাবে না। ভোক্তারা কোনো পণ্য ক্রয় করে সংক্ষুব্ধ হলে কত সময়ের মধ্যে কোথায় অভিযোগ জানাবেন সেই কর্মকর্তা ও বিকল্প কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নাম্বার আউটলেটের সামনে দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং সব আউটলেটে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করতে হবে । তাছাড়া সুপারশপ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কনজুমার-বান্ধব এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে মর্মে জানানো হয়।

