সরকারি নীতিমালার আলোকে নৌপথে পণ্য পরিবহণ করেও ভাড়ার টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাহাজ মালিকরা। চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ পণ্য এজেন্টের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহণ ও জাহাজগুলো। ফলে লোকসানের চাপে জাহাজ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না হলে মালিকদের পক্ষে জাহাজ চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জাহাজ মালিকরা।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘জাহাজ মালিকদের অধিকার রক্ষা এবং পণ্য পরিবহণ নীতিমালা-২০২৪ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে’ জরুরি সভায় এমন অভিযোগ করেন তারা। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়াক)।
সংগঠনের সভাপতি সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী বেলায়েত হোসেন (মিঠু)। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মেহবুব কবির। এছাড়া বিসিভোয়াকের নেতা ও সাধারণ জাহাজ মালিকদের অনেকে বক্তৃতা করেন।
বক্তারা বলেন, আমরা পণ্য পরিবহণ করে ভাড়ার টাকা পাচ্ছি না। অন্যদিকে আমরা সরকারি নীতিমালা মেনে জাহাজ চালাচ্ছি। কিন্তু আমরা ২ মাসে ১ ট্রিপ পণ্য পরিবহণ করছি। অন্যদিকে সিরিয়াল ছাড়া তারা পরিবহণ করছে মাসে ৩-৪ ট্রিপ। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও এই ৪-৫ জন পণ্যের এজেন্ট সিন্ডিকেট করে নৌপথকে ধ্বংস করেছে। এখনো এই সিন্ডিকেট দাপটের সঙ্গে অবৈধভাবে জাহাজ চালাচ্ছে। নৌ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহণ অধিদপ্তরে বারবার সভা করলেও এর কোনো পরিবর্তন হয় নাই।
তারা বলেন, এই সিন্ডিকেটরা আমাদের জাহাজকে পণ্যবোঝাই করে ১১-১২ মাস ভাসমান গোডাউন বানিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এতে বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এই মধ্যসত্ত্বভোগী পণ্যের এজেন্টদের সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পণ্য পরিবহণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় তারা উক্ত নীতিমালা অমান্য করে চলছে। বারবার নৌ পরিবহণ অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত দিলেও তারা নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করে নৌপথেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছে। মালিকদের পাওনা মেটাতে ডিজি শিপিং চিঠি দিলেও সিন্ডিকেট এতে কোনো কর্ণপাত করছে না। সাধারণ জাহাজ মালিকরা স্টাফের বেতন দিতে পারছেন না। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ জাহাজ স্ক্র্যাপ হয়ে গেছে।
বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান না হলে তাদের পক্ষে জাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এর দায়-দায়িত্ব নৌপরিবহণ অধিদপ্তরকে নিতে হবে। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান।
দাবিগুলো হলো-
১. আগামী ৭ দিনের মধ্যে পণ্যের এজেন্টেগণ সাধারণ মালিকদের সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
২. সব জাহাজ সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী চলাচল করতে হবে।
৩. ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৪. সব জাহাজের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

