যুদ্ধবিরতির মধ্যেই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
সোমবার (১৮ মে) শান্তি আলোচনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে এগোতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দুই দফা আলোচনা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তবে পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি তেহরান সফরে রয়েছেন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ দফা শর্তের বিপরীতে ইরান সংশোধিত ১৪ দফা প্রস্তাব তুলে দিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমে ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে ‘অতিরিক্ত’ বলা হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ দিনের জন্য সমুদ্রপথে ইরানের তেল ক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির বড় ধরনের পরিবর্তন। একই সঙ্গে আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও এ সিদ্ধান্ত দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং তা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

