ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ও সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন দাবিতে এবার দক্ষিণ সুরমায়ও দেওয়া হলো কঠোর আলটিমেটাম।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে আয়োজিত গণঅবস্থান ও মানববন্ধনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি সিলেটবাসীর প্রাণরেখা; কিন্তু সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতায় এই জাতীয় মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো উন্নতি নেই। সিলেটবাসীকে আর বঞ্চিত করা যাবে না।
সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল। বক্তব্য রাখেন- নজমুল হোসেন পুতুল, অ্যাডভোকেট হাসান পাটোয়ারী রিপন, ফালাকুজ্জামান চৌধুরী জগলু, ডা. এনামুল হক, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সুয়েব, অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার, বদরুল ইসলাম জয়নুল, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আব্দুল কাদির সমছু, অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদ, আলী আকবর আলী, মাহবুব আলম, মনিরুল ইসলাম তুরন, আবুল হাসনাত, ফজলে রাব্বি আহসান, শাহিন আলম জয়, আপ্তাব উদ্দিন, ছাদিকুর রহমান টিপু, রেজাউর রহমান চৌধুরী রাজু, ফখরুল ইসলাম পাপলু, জামাল মেম্বার, আব্দুল মালিক মল্লিক, সাহেদ মেম্বার, রুহুল আমীন, আমিনুর রহমান চৌধুরী সিফতা, পাবেল রহমান, রাশেদুল হাসান চৌধুরী, দিনার আহমদ শাহ, রায়হানুল হক, মো. শাহিন আহমদ ও মেহেদি হাসান রফি।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের অন্য অঞ্চলে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে, সেখানে সিলেটকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সড়ক, রেল, বন্দর ও বিমান— সবখানেই বৈষম্য চলছে।
তারা অভিযোগ করেন, ঢাকা–সিলেট ৬ লেন প্রকল্পের কাজ মাত্র ১৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে, জমি অধিগ্রহণ এখনো শেষ হয়নি, আর ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে ঢাকার বিকল্প সড়কও একই অবস্থা।
বক্তাদের দাবি, সরকারের উদাসীনতায় এই মহাসড়ক এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে, যা সিলেটবাসীর প্রতি চরম অবিচার।
বক্তারা বলেন, সিলেটবাসীর গণঅবস্থান আজ একটি ঐতিহাসিক বার্তা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টামন্ডলীতেও সিলেটের কেউ নেই, সিলেট এখন বঞ্চনার প্রতীকে পরিণত হয়েছে; কিন্তু এ অবস্থা আর চলবে না। আগামী ২০ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর যদি উদ্যোগ না নেওয়া হয়, আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
গণঅবস্থানে অংশ নেয় জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

