দেশজুড়ে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্প এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে—নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ এবং কেন্দ্রের গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার।
তবে কম মাত্রার ভূমিকম্প হওয়া সত্ত্বেও রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় যে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
গভীরতা যত কম, ঝাঁকুনি তত বেশি
ভূমিকম্প মূলত পৃথিবীর ভূত্বক বা উপরের স্তরে ঘটে এবং পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত এর উৎস হতে পারে। গবেষকদের মতে, ভূমিকম্প যত অগভীর হয়, তার কম্পন ভূপৃষ্ঠে তত বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
একই মাত্রার ভূমিকম্প যদি ৫০০ কিলোমিটার গভীরে ঘটে, তাহলে তার প্রভাব ভূপৃষ্ঠে খুব সামান্যই টের পাওয়া যায়। কিন্তু ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরতায় ঘটলে ঝাঁকুনি অনেক বেশি তীব্র হতে পারে। শুক্রবারের ভূমিকম্পটি অগভীর হওয়ায়—মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে—পুরো ঢাকা ও আশপাশে কম্পন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
দূরত্বের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা এপিসেন্টার থেকে যত কাছে থাকা যায়, ঝাঁকুনি তত বেশি অনুভূত হয়। মাধবদী এলাকার কেন্দ্র থেকে রাজধানীর দূরত্ব ছিল খুবই কম। ফলে মাত্রা মাঝারি হলেও রাজধানীতে তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।
মাটির গঠন কাঁপন বাড়ায় বা কমায়
ভূমিকম্পের সময় কম্পনের শক্তি নির্ভর করে মাটির ধরনের ওপরও। নরম, পুরু মাটি বেশি কাঁপে এবং কম্পন বাড়িয়ে তোলে। কঠিন পাথুরে মাটি আবার কম্পন কমিয়ে দেয়।
ঢাকার অনেক এলাকায় নরম মাটি থাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
উঁচু ভবনে কম্পন বেশি লাগে
উঁচু ভবনের কাঠামো ভূমিকম্পের তরঙ্গের সঙ্গে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করে। ফলে অনেক সময় ছোট মাত্রার ভূমিকম্পও উচ্চতলার বাসিন্দাদের কাছে বেশি তীব্র বলে মনে হয়। কম্পন স্থায়ী হলে ঝাঁকুনিও বেশি মনে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে তিনটি কারণে কম মাত্রার ভূমিকম্পও বড় মনে হতে পারে— ১. অগভীর কেন্দ্র – মাধবদীর ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল খুবই কাছে এবং অগভীর, তাই ঝাঁকুনি বেশি। ২. ঢাকার নরম মাটির স্তর – কম্পন বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. উঁচু ভবনের প্রভাব – উচ্চতলায় বসবাসকারীরা তীব্রভাবে কেঁপে ওঠা অনুভব করেছেন।

