নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ছাগল ও কুকুরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া সুয়াইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশা আক্তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন।
পরিবারের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার গর্ভপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আশা আক্তার বলেন, “ভাইকে বাঁচাতে গেলে ফেরদৌস মিয়া আমার পেটে লাথি মারেন। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।”
আশার স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করলেও পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ বলেন, “পরীক্ষায় ওই নারীর গর্ভপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সুয়াইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা জামিল স্বপন বলেন, “শুনেছি ওই নারীর আগেই গর্ভপাত হয়েছিল। এখন মারামারির ঘটনায় ফেরদৌসকে জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।”
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

