টাঙ্গাইলে গৃহবধূ নাজমা আলম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন টাকার জন্য তাকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর তিনি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, প্রায় দুই দশক ধরে টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করতেন মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন। সেই সুবাদে গৃহবধূ নাজমা আলম ও তার পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি বাসার এক সেট চাবি এবং সিসি ক্যামেরার পাসওয়ার্ডও তার কাছে ছিল।
তদন্তে জানা যায়, সম্প্রতি প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন মোশারফ। পরে তিনি নাজমার কাছে এক লাখ টাকা হাওলাত চান। তবে নাজমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে কৌশলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর খাটের নিচে থাকা ২৯ হাজার টাকা, গলার চেইন ও হাতের বালা নিয়ে পালিয়ে যান।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়িটি বাসাতেই ছিল। বাসার দুটি হাতুড়ির একটি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন মোশারফ।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং ঘটনার বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় মোশারফ হোসেনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হত্যার পর মোশারফ বাসার সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন এবং স্বর্ণালংকার, হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যান। মঙ্গলবার দুপুরে দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে টাঙ্গাইল শহরের নিজ বাসা থেকে গৃহবধূ নাজমা আলমকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

