ভারতের হায়দরাবাদের মালকাজগিরি এলাকার পুলিশ কমিশনার সুমতি নারীদের রাতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করতে ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমে এক ব্যতিক্রমী অভিযান পরিচালনা করেছেন।
গত বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি দিলসুখনগর বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ পোশাকে একা দাঁড়িয়ে থেকে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
অভিযানের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ জন পুরুষ তাকে লক্ষ্য করে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ, অশালীন মন্তব্য ও হেনস্তার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ ছিল—ছাত্র থেকে শুরু করে কর্মজীবী ব্যক্তিরাও।
৫০ বছর বয়সী এই আইপিএস কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ যাত্রী সেজে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একাধিক ব্যক্তি, বিশেষ করে মদ্যপ অবস্থায় থাকা কিছু পুরুষ, তাকে বিরক্ত করে এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
সুমতি জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে ডিএসপি হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতেও তিনি একই ধরনের ছদ্মবেশী অভিযান চালিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি তাকে বিস্মিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেফতার না করে ভিন্ন কৌশল নেয় পুলিশ। হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কাউন্সেলিং করা হয়। নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের গুরুত্ব বোঝানো হয় এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই কমিশনার সুমতির এই উদ্যোগকে সাহসী ও বাস্তবধর্মী বলে প্রশংসা করলেও, এটি একইসঙ্গে শহরে রাতের বেলায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নও তুলেছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন না হলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন—এই বাস্তবতাই আবারও সামনে এসেছে হায়দরাবাদের এই ব্যতিক্রমী অভিযানের মাধ্যমে।

