লেবাননে চলমান সংঘাত ও ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রায় ৫৮ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখন জীবনধারণের জন্য সরাসরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
সম্প্রতি বৈরুতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন–এর সঙ্গে বৈঠকের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রধান হাদজা লাহবিব সাংবাদিকদের কাছে এই পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত ভয়াবহ” হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য জরুরি ত্রাণের ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি বিমানে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে এবং সপ্তম চালানও শিগগিরই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে গত মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ২,৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অন্তত ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যদিও গত ১৭ এপ্রিল ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল, তবুও এরপরও বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে একের পর এক গ্রাম ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
চরম এই মানবিক সংকটের মধ্যে লেবাননের জনগণ এখন মূলত আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

