ঢাকার নবাবগঞ্জে মোবাইল ও টাকা চুরির অভিযোগ তুলে দুই তরুণীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের পুরাতন বান্দুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে নির্যাতনের শিকার এক তরুণীর করা মামলায় বাড়ির মালিক মো. ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী আয়শা আক্তারকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরাতন বান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন দুই তরুণী। সোমবার সন্ধ্যায় তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এ অভিযোগে ইব্রাহিমসহ স্থানীয় কয়েকজন দুই তরুণীকে আটক করেন। পরে তাদের মারধর করে চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে।
এ সময় বাড়ির মালিক ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী আয়শা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে রাতভর উভয়পক্ষ থানায় অবস্থান করে।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার এক তরুণী বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেন, চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ না দিয়ে দুই তরুণীকে ধরে চুল কেটে বেআইনি কাজ করেছেন। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

