বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠানো দেশ হিসেবে নয়, বরং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ভারতে অস্ট্রেলিয়ান কনস্যুলেট জেনারেলের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন— ভারতের অস্ট্রেলিয়ান কনস্যুলেট জেনারেলের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনার ভিক সিং, ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনার মেঘা গুপ্ত এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সিনিয়র ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান। সভায় ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভিনও উপস্থিত ছিলেন।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইউজিসি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানে উন্নীত করা এবং নতুন আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়েও কমিশন সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব ও সম্পর্ক জোরদারে ইউজিসির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, উচ্চশিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে আগামী জুন মাসে ঢাকায় একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির ৭ থেকে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এ সময় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনে ইউজিসির সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
এছাড়া চলতি বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ‘অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কনফারেন্স (এআইইসি)’–এ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বৈঠকে দক্ষতা উন্নয়ন, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং উচ্চশিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও জোরদারের বিষয়ে উভয়পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করে।

