নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ২ মে নাওড়া-ইছাখালী সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেওয়া নিয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের সভাপতিত্বে বরুনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ তাদের অবস্থান তুলে ধরার সময় একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এবং ৩ থেকে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে বিল্লাল হোসেন (৩৫), মোমেন খাঁ (২৮) ও অপু মিয়া (২২) গুরুতর অবস্থায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিল্লাল হোসেন বলেন, সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের লোকজনই অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

