রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলনার শব্দ, শিশুদের হাসি আর কোলাহলে মুখর পরিবেশে শিশুদের সঙ্গে প্রায় ১৮ মিনিট সময় কাটান তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সোয়া ১১টায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টারটি পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে প্রবেশ করেই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান তিনি। ছোট্ট শিশুরা তাকে ঘিরে ধরে আনন্দ প্রকাশ করে। কেউ করমর্দন করে, কেউ খেলনা দেখায়, আবার কেউ নিজেদের আঁকা ছবি তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রীও মনোযোগ দিয়ে শিশুদের কথা শোনেন এবং তাদের উৎসাহ দেন।
একপর্যায়ে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন সরকারপ্রধান। এ সময় শিশুদের হাতে চকলেট, টফি, ললিপপ ও উপহারের ব্যাগ তুলে দেন তিনি। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আর কেউ কি বাকি আছে? সবাই পেয়েছো তো?”
পরে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে জন্মদিন নিয়ে মজার কথোপকথন করেন। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো, আমরা একসাথে কেক কাটি।”
এরপর শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন তিনি। পুরো কক্ষ তখন করতালি ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। শিশুরা ‘হ্যাপি বার্থডে’ গান গাইতে থাকে। এ সময় এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে কেক খাইয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ছোট্ট শিশু আরিবা। সে বলে,
“প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে দেখে আমি অনেক খুশি। আংকেলের সঙ্গে কেক খেয়েছি। আংকেল আমাদের গিফটও দিয়েছেন। আংকেল খুব ভালো।”
ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না শিশুদের যত্ন ও সেবার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের খাবার, পরিচর্যা ও মানসিক বিকাশ সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকাসহ সারা দেশে মোট ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এসব কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। তেজগাঁওয়ের এই কেন্দ্রে বর্তমানে ৬০ জন শিশুর জন্য ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিল ৫৫ জন।
পরিদর্শন শেষে শিশুদের দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী। শিশুরাও হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে তাকে বিদায় জানায়। নিষ্পাপ হাসি আর ভালোবাসায় ভরা সেই মুহূর্তে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দময়।
এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রীর পাশাপাশি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনও উপস্থিত ছিলেন।

