জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে “কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নানা সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সময় এসেছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা জরুরি। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজারের বেশি কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
তারেক রহমান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও আর্থিক সাক্ষরতার মতো বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন অনুদান’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা শুধু পাঠদানকারী নন; তারা সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের আদর্শ। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

