কিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা দেখছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশিষ্ট ব্রিটিশ বিশ্লেষক এইচ. এ. হেলিয়ার।
সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কোনো বড় ধরনের ঐকমত্য না আসলেও, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে হেলিয়ার বলেন:
“এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক। বর্তমান পরিস্থিতি থমথমে হলেও আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে আরও কয়েক দফা আলোচনার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।”
বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, পাকিস্তানের দীর্ঘ আলোচনা থেকে ইরানের সাথে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এই আলোচনার ব্যর্থতার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির প্রধান প্রধান তেল বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষক হেলিয়ার। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের এই ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে। হেলিয়ারের মতে, ইরানীরা বাহ্যিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করার চেয়ে লড়াই করে টিকে থাকতেই বেশি পছন্দ করে।
এখন দেখার বিষয়, এই দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন কোনো কূটনৈতিক পথ তৈরি হয় কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে ধাবিত হয়।

