ফরিদপুরের সালথায় এক স্কুল দপ্তরিকে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গভীর রাতে আটক করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তি মো. আজাদ শেখ (৩৫), বড় খারদিয়া গ্রামের রব শেখের ছেলে এবং স্থানীয় বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে থাকা অবস্থায় আজাদকে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে তাকে একটি আলমারির ভেতর থেকে খালি গায়ে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার একটি প্রায় ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক আলমারি খুলে তাকে বের করার চেষ্টা করছেন এবং উপস্থিত অনেকে মোবাইলে দৃশ্য ধারণ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আজাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ওই নারীর ছেলে স্কুলে পড়াশোনা করে, এবং তাকে আনা-নেওয়ার সময় থেকেই তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে সম্পর্কটি পরকীয়ায় রূপ নেয় এবং আজাদ মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে ওই বাড়িতে যেতেন।
ঘটনার রাতে স্থানীয়রা টের পেয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেললে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন বলে জানা যায়। পরে তাকে আটক করা হলেও পুলিশে না দিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, রাতে পাশের বাড়িতে মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে আজাদকে ঘরে দেখতে পান এবং পরিস্থিতি টের পেয়ে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইরন ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, দপ্তরি আজাদ শেখের জন্য তার স্ত্রী ছুটির আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়, পরে বিষয়টি তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং অফিসে ফিরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হতে পারে।

