দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর শাবলের আঘাতে কুলসুম আক্তার মিমি (৩০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মানিক হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর পৌনে ৪টার দিকে ফুলবাড়ী পৌর শহরের স্বজনপুকুর বুন্দিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কুলসুম আক্তার মিমি ওই এলাকার মৃত আব্দুল কাশেমের মেয়ে। আটক মানিক হোসেন পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই মানিক হোসেন শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানিক কোনো কাজকর্ম না করায় সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত।
স্বজনদের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে কুলসুম তার স্বামীকে অন্য কক্ষে গিয়ে ঘুমাতে বললে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মানিক ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে ঘরে থাকা একটি লোহার শাবল দিয়ে কুলসুমের মাথা ও বুকে উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় সন্তানদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত মানিককে হাতেনাতে আটক করে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা মেহেরুন নেছা বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মায়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে নিহতের বড় ছেলে আল-আমিন বলেন, “আমাদের চোখের সামনেই মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বাবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

