মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
বর্তমানে দেশে গড় খুচরা বিদ্যুৎ মূল্য প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৯৫ পয়সা, যদিও গ্রাহকভেদে এটি ভিন্ন হয়ে থাকে। পিডিবির হিসাবে বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা।
তবে নিম্ন আয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য (যারা মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন) দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবগুলো এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর মতে, ঈদুল আজহার আগে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে জুন মাস থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হতে পারে।
পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও দাম সমন্বয় করা হবে।
এছাড়া নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিদ্যুতের মোট খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে আয়-ব্যয়ের ঘাটতির কারণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। পিডিবির মতে, দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে, তবে ৬৩ শতাংশ নিম্ন আয়ের গ্রাহক ‘লাইফলাইন’ সুবিধার আওতায় থাকবেন।
সব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানি ও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিদ্যুতের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

