ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামে এক কিশোরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর নবজাতক সন্তানের সঙ্গে তার কোনো মিল না পাওয়ায় আদালত তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়। একই সঙ্গে ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই শিশুর জৈবিক পিতা কিশোরীর সহোদর বড় ভাই মোরশেদ।
পুলিশ জানায়, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং মোরশেদকে রক্ষা করতেই ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর গত ১৭ এপ্রিল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করা হয় এবং মোরশেদকে অভিযুক্ত করা হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর তার পরিবার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে। মামলার পরপরই তিনি চাকরি হারান এবং গ্রেফতার হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। পরে ২৮ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হন।
পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফরের সঙ্গে শিশুর ডিএনএ মিল না পাওয়ায় তদন্ত নতুন মোড় নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী এক পর্যায়ে স্বীকার করে, তার সহোদর বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করছিল।
২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুর সঙ্গে তার ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরীফ হোসেন মোজাফফরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।
অব্যাহতি পাওয়া ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, তিনি সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চাকরি হারানোর পর নতুন কোনো কর্মস্থলে সুযোগ পাননি। তিনি ঘটনার সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উন্মোচিত হয়েছে এবং এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা ছিল।
পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট থেকে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকৃত অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর বড় ভাই।”

