বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের অভিপ্রায় ও জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। এ বিষয়ে ভারতকে দ্রুত আলোচনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন-এ ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “ভারত সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা জানাতে চাই, অবিলম্বে বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভিপ্রায় অনুযায়ী ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। অন্যথায় দুই দেশের সুসম্পর্ক স্থাপনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তি করা হবে না এবং চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে ভারতকে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে।
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এবং তা দেশের জনগণের উপকারে আসবে।
ফারাক্কা বাঁধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশ ফারাক্কা বাঁধের নামে অন্যায় করছে। এই অন্যায় দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর।” একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানান।
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে। তবে দেশের জনগণ গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা দেশের নদী ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

