ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং দেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের ছয়টি নদ-নদীর ১০টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটার এবং চট্টগ্রামের দোহাজারী পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া মাতামুহুরি নদীর লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার, কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার করে, ধলাই নদীর কমলগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সমতলের নদ-নদীগুলোর মধ্যে ৯৩টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ৩১টি পয়েন্টে পানি কমেছে এবং তিনটি পয়েন্টে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট) ও তারাপুর (গাইবান্ধা), কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও শেরপুর (মৌলভীবাজার) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) ও লাউরেরগড় (সুনামগঞ্জ) পয়েন্ট।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের ভারি বৃষ্টিপাত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

