হাসপাতালের ময়লাও ছাড়ে না জলিল সিন্ডিকেট,আহ্ছানিয়া মিশনে তুঘলকি কাণ্ড


স্টাফ রিপোর্টার, ১০ মে ২০২৬
“সৃষ্টির সেবা ও স্রষ্টার সন্তুষ্টি”—এই মহৎ দর্শনকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পরম আশ্রয়ের নাম হিসেবে দীর্ঘকাল আস্থার প্রতীক ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেই পবিত্র লক্ষ্য আজ ধুলোয় মিশতে বসেছে; মানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন একদল সুযোগ সন্ধানী ও মতলববাজ সিন্ডিকেটের লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। যে মিশনের ক্যানসার হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল আর্তনাদ মোচনের কেন্দ্র, সেখানে এখন চলছে অর্থ আত্মসাৎ,স্বজনপ্রীতি আর সম্পদের হরিলুট। সাবেক প্রেসিডেন্টের তিল তিল করে গড়া সম্পদ আজ গিলে খাচ্ছে এক প্রভাবশালী চক্র, যেখানে সেবার চেয়ে ব্যক্তিগত বিলাসিতাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যে আলোকবর্তিকা নিয়ে মিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ দুর্নীতির কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গেছে। এই নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব –
মানবতার সেবার আড়ালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনে (ডাম) জেঁকে বসেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নীতি-নির্ধারকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে এর ঐতিহ্য ও সম্পদ।
‘চিকিৎসা বিলাস’ ও সিন্ডিকেটের থাবা
প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজের শারীরিক চিকিৎসায় ব্যয়ের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। সূত্রমতে, তিনি ডামের তহবিল থেকে চিকিৎসার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই লুটপাটের রাজত্বে তাঁর প্রধান সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে ডা. এম জলিল ও ডা. মোহাম্মদ খলিলের। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এই ‘গোলাম-জলিল-খলিল’ চক্রটি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে।
সম্পদের হরিলুট ও আত্মীয়করণ
ডামের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা এখন অতীত। চট্টগ্রামের মূল্যবান জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্যান্সার হাসপাতালের বর্জ্য বিক্রির টাকা পকেটে ভরার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডা. জলিল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এছাড়া হাসপাতালের সরঞ্জাম ও ড্রেসের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে ৭০০ টাকার পোশাক ১২০০ টাকা দেখান হয় এছাড়াও রয়েছে অদৃশ্য ব্যয় যেখানে এক কোটি টাকার কাজের কোনো হদিস নেই।
আত্মীয়করণ: নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটিকে ‘একান্নবর্তী পরিবার’ বানিয়েছেন জলিল। এমনকি তার ছত্রছায়ায় থাকা এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
রাজনৈতিক চক্রান্ত ও দখলদারি
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের (বর্তমানে কারাবন্দী) সাথে আঁতাত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমকে সরিয়ে পদ দখল করেন ড. গোলাম রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শুরু করেন শুদ্ধি অভিযান—কাজী রফিকুলের অনুসারীদের অপমান করে বিদায় করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্র করা এখন ডামের নিয়মিত চিত্র। এছাড়া সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মীদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে অন্য জেলার কর্মীরা বর্তমানে কোণঠাসা।
অভিযুক্তদের তালিকায় যারা
ডামের অভ্যন্তরে সমালোচনা ও ক্ষোভ থাকলেও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না কেউ। তবে দুর্নীতির এই চক্রে সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে প্রফেসর ড. গোলাম রহমান (প্রেসিডেন্ট)
ডা. এম এ জলিল (ট্রেজারার),ডা. মোহাম্মদ খলিল (ভিপি), মো: রফিকুজ্জামান রফিক (কোম্পানি সেক্রেটারি ও অডিট ঠিকাদার), আবুল কালাম আজাদ (হিসাব রক্ষক)
মানবতার ফেরিওয়ালা সেজে এই চক্রটি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সম্পদ বিক্রি করে তা কোথায় সরিয়ে ফেলছে, তা এখন ডামের সাধারণ কর্মী ও সুধী মহলের প্রধান প্রশ্ন। জনমনে ক্ষোভ থাকলেও এই সিন্ডিকেটের দাপটে বর্তমান প্রশাসন নিশ্চুপ।
