যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে চীনের রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ফলে দেশটি দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে।
এদিকে ভিয়েতনাম ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির বাজার হিস্যা বর্তমানে প্রায় ২২ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের হিস্যা প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম।
শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি কমেছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলার এবং ভারতের রপ্তানি ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতি বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে চীনের ওপর। অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান কিছুটা সুবিধাজনক হয়েছে।
তবে রপ্তানিকারকেরা বলছেন, শুল্কজনিত কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমেছে।

