কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টানা সহিংসতায় দুই দিনে দুই সশস্ত্র গ্রুপের দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে পুরো ক্যাম্প এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ও বুধবার (৬ মে) উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ৮/ইস্ট ব্লক ও আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি গোলাগুলির ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কথিত ‘হালিম গ্রুপ’-এর প্রধান আব্দুল হালিম এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) বা নবী হোসেন গ্রুপের প্রধানের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের হামলায় আব্দুল হালিম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এরপর বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ক্যাম্প-৮/ইস্ট এলাকায় আরেক দফা গোলাগুলিতে মোহাম্মদ কামাল গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, আহত কামালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সিরাজ আমিন আব্দুল হালিম নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে এবং ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা চললেও সাম্প্রতিক এই ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

