ভারতের মহারাষ্ট্র-এর ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল-কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল-এর বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগেও একই স্থানে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহতের বাবা বিশাল আগরওয়াল পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, গত ১৪ জুন সিয়া কেতনকে দুর্গের কিনারা থেকে ধাক্কা দেন। তবে সে সময় একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান কেতন। পরে নিজের অপরাধ আড়াল করতে ‘সাপ, সাপ’ বলে চিৎকার করে তাকে জড়িয়ে ধরেন সিয়া।
বিশাল আগরওয়ালের দাবি, বালিতে প্রি-ওয়েডিং সফরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে রহস্যজনকভাবে কেতনের পাসপোর্টও হারিয়ে যায়। পরে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। কয়েক দিন পর সিয়া আবার কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে যেতে জোর করেন।
গত ১৮ জুন পুনে জেলার গাহুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কেতন আগরওয়াল প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মারা যান। শুরুতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও পরে তদন্তে হত্যার সন্দেহ জোরালো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া গোয়েল ও তার কথিত প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরী-কে হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিয়া একটি বেকারি পরিচালনা করতেন এবং চেতনের একটি ড্রাই ফ্রুটস কোম্পানি রয়েছে। ব্যবসায়িক সূত্রেই তাদের পরিচয় হয় বলে জানা গেছে।
সন্দীপ সিং গিল জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা কেতনকে নিজেদের পথের বাধা হিসেবে দেখছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুরতে যাওয়ার অজুহাতে সিয়া কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান। পরে সেখানে চেতনও যোগ দেন। এরপর দুজনে মিলে কেতনকে দুর্গ থেকে নিচে ফেলে দেন।
স্থানীয় অপরাধ তদন্ত শাখা প্রথমে সন্দেহের ভিত্তিতে চেতনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত দুজনকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
এ ঘটনায় লোনাভালা গ্রাম পুলিশ হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষের দিকে কেতন ও সিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। রাজস্থানের উদয়পুর-এ একটি রাজকীয় প্রাসাদ বুকিংসহ দুই পরিবারই বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে।

