রাজধানীর মিরপুর-এর ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজার-এ জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (১৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ মোস্তাক সরকার।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, হামলায় গুরুতর আহত রেশমি বেগম শনিবার রাতে শাহ আলী থানা-য় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— মো. আলী আকবর, মো. বাপ্পা, মো. বাবু, মো. কাউসার, মো. আজম, শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল, কাজী জহির, মো. মিজান ও কাজী পনির। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে রেশমি বেগম উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলী মাজারে জিয়ারত ও ওরস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের উপস্থিতির মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসময় হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের ঐতিহ্যবাহী লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে রেশমি বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, হামলায় মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শাহ আলী মাজারে বাউল-ফকিরদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার সকালে মাজার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাধু-গুরুভক্ত ও ওলি আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাববৈঠকী এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, তিন দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরস মোবারক শুরুর আগে এমন ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাজারে হামলার ঘটনায় সরকারের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেন, “ভারতের শুভেন্দু অধিকারীর নীতিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে না। উস্কানিতে মাজার ভাঙচুরে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
এর আগে শনিবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাজার প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, প্রীতম দাশ ও হুমায়রা নূরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

