মিশন ‘হেক্সা’ পূরণের স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল প্রত্যাশার চেয়েও অনেক আগেই। নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মতে, ব্রাজিলের বিদায়ের পেছনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে চারটি বড় কারণ।
প্রথমত, ব্যর্থ হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির কৌশল। ইতালিয়ান এই কোচের অধীনে ব্রাজিলকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। তবে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। আক্রমণে কিছু সুযোগ তৈরি হলেও দলগত সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং ছন্দহীন আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচজুড়েই ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। যোগ করা সময়ে নেইমারের গোল শুধু ব্যবধান কমিয়েছে, হার ঠেকাতে পারেনি।
দ্বিতীয় বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিসকে। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডের দারুণ সেভে সেই সুযোগ নষ্ট হয়। নকআউট ম্যাচে এমন সুযোগ হাতছাড়া অনেক সময় পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাচ শেষে সেই পেনাল্টিকেই বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তৃতীয়ত, সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিক। দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পাস থেকে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। এছাড়া রাফিনহার অনুপস্থিতি এবং একের পর এক সুযোগ নষ্টের মহড়াও বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায় ব্রাজিলের জন্য।
সবশেষে ব্রাজিলের বিদায়ের সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে ওঠেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার একাই যেন ধ্বংস করে দিয়েছেন সেলেসাওদের স্বপ্ন। ৭৮তম মিনিটে হেডে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৮৯তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে নিশ্চিত করেন ব্রাজিলের বিদায়। জোড়া গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা সাতটিতে নিয়ে যান হালান্ড। এর ফলে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে এসেছেন নরওয়ের এই তারকা ফরোয়ার্ড।

