ঢাকার সাভারের ছায়াবিথি এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনি (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রনি ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৯ জুন) রাতে সাভার মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত রিয়া মনি নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার আব্দুর রবের মেয়ে। তিনি স্বামী রনি ইসলামের সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার ছায়াবিথি মহল্লায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রনি ও রিয়া দম্পতি ছায়াবিথি এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার পর ফ্ল্যাটে তালা লাগানো অবস্থায় রিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রনি ইসলাম সম্প্রতি সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে রিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি রিয়াকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে তাদের দাবি।
রিয়ার মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানায় রনি ইসলামকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, “রনি দীর্ঘদিন ধরে রিয়ার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
নিহতের নানি জাহানারা বেগম বলেন, “রিয়ার বাবা-মা দুজনই প্রবাসে থাকেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, “রনি ইসলাম তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন বলে মায়ের কাছে ফোনে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক সুরতহাল অনুযায়ী, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রনি ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

