টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে সাদাপাথর, জাফলংসহ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাদাপাথর ও বিছনাকান্দি এলাকায় আপাতত পর্যটক সমাগম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সাদাপাথর ও বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকায় পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, ধলাই ও সারিসহ একাধিক নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের কোনো নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর একাধিক পয়েন্টে পানির স্তর বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট।
একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির সমতল ৯ দশমিক ৩০ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ পানি এখনো বিপদসীমার প্রায় দেড় মিটার নিচে রয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কানাইঘাট এলাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে সিলেট শহর এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২ মিলিমিটার।
কুশিয়ারা নদীর অবস্থাও মিশ্র। শেওলা পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেলেও ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে কিছুটা কমেছে। তবে সবগুলো পয়েন্টেই পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

