আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যেসব দেশ তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তা করবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের সময় তারা “অসুবিধার” মুখে পড়বে।
রোববার (১০ মে) ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে বলা হয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামি নিয়া এই বক্তব্য দেন।
বিবৃতিতে জেনারেল আকরামি নিয়া দাবি করেন, ইরানকে দমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শত্রুপক্ষ যেসব লক্ষ্য নিয়েছিল, তার কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি। চলমান সংকটেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। তাই এই প্রণালি নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌ-পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান–ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানানো হয়।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক যান চলাচলে কিছু ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের খবরও সামনে আসে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিলেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার নীতি বজায় রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

