উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়া অবশেষে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল। ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভাকে সম্প্রসারিত করে নতুন সিটি করপোরেশন ঘোষণা করে সরকার গেজেট প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগ এ গেজেট প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গেজেটে নতুন সিটি করপোরেশন গঠনের কথা জানানো হয়।
গেজেট অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩(৩) অনুসারে বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং আশপাশের সম্প্রসারিত এলাকা যুক্ত করে নতুন সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। এতে মোট ২১টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিটি করপোরেশনে বগুড়া পৌর এলাকার পাশাপাশি সদর উপজেলা ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুলবাড়ি, নিশিন্দারা, কাটনারপাড়া, সুত্রাপুর, চকবৃন্দাবন, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, গাড়ামাড়া, মালতিনগর, লতিফপুর, ফুলদীঘি ও বেতগাড়িসহ আরও কয়েকটি এলাকা।
এর আগে সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।
ঘোষণার পর থেকেই এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন এই প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।
এদিকে নতুন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বা ভবিষ্যৎ মেয়র পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চাঁন, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, আলী আজগর তালুকদার হেনা, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, কেএম খায়রুল বাশার ও জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ও নতুন সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে নতুন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে যাবে—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

