মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জান্তা বাহিনীকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত করে আগামী ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান আরাকান আর্মির প্রধান জেনারেল তোয়ান ম্রাত নাইং।
সামরিক অগ্রযাত্রায় কোণঠাসা জান্তা
গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে রাখাইনে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ১০২৭’-এর দ্বিতীয় ধাপের পর থেকে একের পর এক এলাকা দখল করে নিচ্ছে আরাকান আর্মি। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টিই বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটির দখলে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পালেতওয়া অঞ্চলটিও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
বর্তমানে জান্তা বাহিনীর হাতে কেবল তিনটি প্রধান এলাকা অবশিষ্ট রয়েছে:
- রাজধানী সিত্তওয়ে
- কিয়াকফিউ
- মানাউং
জেনারেল তোয়ান ম্রাত নাইং তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে আমাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাচ্ছি। জান্তা সরকারের পতন নিশ্চিত করতে অন্যান্য মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে আমাদের সমন্বিত লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
বিকল্প শাসনব্যবস্থা ও মানবিক সংকট
কেবল সামরিক বিজয়ই নয়, আরাকান আর্মি ইতোমধ্যে তাদের দখলকৃত এলাকাগুলোতে একটি বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে এখন নিজস্ব:
- প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আদালত
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল)
- স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা ক্লিনিক
তবে এই অগ্রযাত্রার বিপরীতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরম আকার ধারণ করেছে। হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে জান্তা বাহিনী নিয়মিত বিমান ও নৌ-হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো রাখাইন দখলের এই ঘোষণা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার জন্য এক বড় চপেটাঘাত। যদি সিত্তওয়ে ও কিয়াকফিউ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরীগুলো আরাকান আর্মির দখলে চলে যায়, তবে জান্তা সরকারের জন্য বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

