প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ডিজাইন, প্রশিক্ষণ ও পাইলটিং শেষ করে ২০২৮ সাল থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম পাবে।
রোববার দুপুরে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত প্রাথমিক স্তরের ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রমের বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন কারিকুলামের ডিজাইন সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২০২৭ ও ২০২৮ সালে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে আগে কারিকুলাম সঠিকভাবে ডিজাইন করা জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষায় ‘আর্লি লার্নিং’ বা ছোট বয়সের শেখার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভাষা শিক্ষা ও মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জন। এতে চারটি ভাষাগত দক্ষতা—শোনা, বলা, পড়া ও লেখা—ধাপে ধাপে শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বর্তমান পাঠ্যবই শিশুদের জন্য উপযোগী নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় আকারের বই শিশুদের শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, নতুন কারিকুলামে সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে, যা ভাষা শিক্ষার মাধ্যমেই শেখানো সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যবই প্রণয়ন ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো শিশুদের শেখার উপযোগী করে পুনর্বিন্যাস করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের মূল মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীদের লার্নিং আউটকাম।
সভায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তীসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা।

