ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত থাকলেও আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো অবিচার, অত্যাচার বা জুলুম হতে দেওয়া হবে না।
রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসাগুলোকে যেন বঞ্চিত না করা হয় এবং তাদের প্রতি কোনো ধরনের অবিচার না হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “ওলামায়ে কেরামের জন্য ইসলাম টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। আল্লাহপাকই কেয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ও এর শিক্ষা ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখবেন।” তিনি আলেম সমাজকে একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অতীতে চামড়ার দাম না পাওয়ায় অনেক সময় তা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এ পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, সে জন্য আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং চামড়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
আলেমদের সমাজের ধারক ও বাহক হিসেবে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালের গণভোটে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আলেমদের অবদানও স্মরণ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগ অতীতে কেউ নেয়নি, তবে এখন এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে সভায় ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।

