দিনাজপুরের বিরামপুর শহর ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় পচা গরুর মাংস বিক্রি এবং ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা প্রকাশ্যে আসায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে স্থানীয় বাজারে মাংস বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং হোটেল ব্যবসায় ধস নেমেছে।
জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিরামপুর শহরের রেলগেট এলাকায় এক কসাইয়ের দোকানে প্রকাশ্যে মৃত গরুর দুর্গন্ধযুক্ত পচা মাংস বিক্রির সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জনরোষের মুখে মূল অভিযুক্ত কসাই পালিয়ে যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে জড়িত দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং উদ্ধার করা পচা মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
অন্যদিকে, গত ৩ এপ্রিল নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৫টি ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন কসাইকে আটক করে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন।
এই দুই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে মাংসের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর বাইরে আরও অসাধু কসাই বিভিন্নভাবে মৃত বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারজাত করছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী গরু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সুস্থতার ছাড়পত্র নেওয়া এবং নির্দিষ্ট কসাইখানায় জবাই করার নির্দেশনা রয়েছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে মাংস কেনা থেকে বিরত থাকছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে বাজারে কসাইদের বিক্রি এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। একইভাবে হোটেলগুলোতেও মাংসজাত খাবারের চাহিদা কমে গিয়ে বিক্রি নেমে এসেছে এক-চতুর্থাংশের নিচে।
বিরামপুর বাজারের কসাই আনিছুর রহমান বলেন, “আগে বেলা ১১টার মধ্যেই সব মাংস বিক্রি হয়ে যেত। এখন সারাদিন বসে থেকেও অর্ধেক বিক্রি করতে পারছি না।”
নবাবগঞ্জ বাজারের কসাই মিলন মিয়া জানান, “আগে প্রতিদিন ৩-৪টি গরু জবাই হতো, এখন একটি গরুর মাংসও ঠিকমতো বিক্রি হয় না।”
অন্যদিকে, বিরামপুর শহরের শিরু হোটেলের স্বত্বাধিকারী সাকিব হাসান এবং নবাবগঞ্জ বাজারের ভোজন বিলাস হোটেলের স্বত্বাধিকারী শাহাজুল ইসলাম বলেন, “আগে মাংসের চাহিদা অনেক ছিল। এখন খদ্দেররা মাংস খেতে চাচ্ছে না। বিক্রি এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে এসেছে, কর্মচারীদের নিয়েও অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

