ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় সরাসরি সহযোগিতা এবং নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ প্রভাবশালী দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। দেশগুলো হলো— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন এবং জর্ডান।
জাতিসংঘে ইরানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
সোমবার স্থানীয় সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয় যে, উল্লিখিত দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা প্রদান করেছে।
হামলার প্রমাণ ও পর্যবেক্ষণ
চিঠিতে আমির সাঈদ ইরাভানি উল্লেখ করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিরন্তর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত যে, এই দেশগুলোর মাটি ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণ ইতোমধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন:
“আগ্রাসীরা ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এর ফলে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নিতে হবে।”
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরান দাবি করেছে যে, ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দেশকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার জন্য নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন জুগিয়েছে।
ইরানের কঠোর অবস্থান
চিঠিতে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে:
ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য এই দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
অবিলম্বে এই ধরনের অন্যায় ও বেআইনি তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থী কাজ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরানের এই পদক্ষেপ দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

