নেত্রকোনায় সকাল থেকেই ঝলমলে রোদের দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তীব্রতাও বাড়ে। টানা বৃষ্টির দুর্যোগ ও ভোগান্তির পর এমন রোদে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাওড়াঞ্চলের কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন এমন রোদ অব্যাহত থাকলে ধান কাটা, মাড়াই এবং শুকানোর কাজ সহজ হবে। একই সঙ্গে যেসব জমির ধান এখনো তলিয়ে যায়নি, সেগুলোও দ্রুত কাটা সম্ভব হবে। তবে বৃষ্টি হলে আবারও ধান শুকাতে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। সোমেশ্বরী, কংস, উব্দাখালী ও ধনুসহ বিভিন্ন নদীর পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে, তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে আটপাড়া উপজেলার শুনই হাওড়ে কৃষক আমেনা বেগম সকাল থেকে রোদে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি জানান, আগের কয়েক দিন আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাজ করা যায়নি। এখন রোদ পাওয়ায় দ্রুত ধান শুকিয়ে নিতে হচ্ছে, কারণ কখন আবার বৃষ্টি নামে বলা যায় না।
গত কয়েক সপ্তাহের অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে অনেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায় এবং কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।
নেত্রকোনা সদর ও খালিয়াজুরীসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা জানান, তারা জমির ধান রক্ষা করতে না পেরে এখন শুকানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওড় অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। যদিও সরকারি হিসাবে ১৩ হাজারের বেশি হেক্টর জমির ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, স্থানীয়দের মতে প্রকৃত ক্ষতি আরও অনেক বেশি।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে, যা কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
সব মিলিয়ে রোদে স্বস্তি ফিরলেও নেত্রকোনার হাওড়ের কৃষকদের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ধান কাটা, শুকানো এবং ক্ষতি সামাল দেওয়া।

