নতুন অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়াতে একের পর এক কর ও ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সরকার। নিত্যপণ্যে উৎসে কর বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা–মোটরসাইকেল নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাজেট প্রণয়নের আগে এনবিআর সাধারণত বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বার, অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে। এসব সুপারিশ ও প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বাজেটের একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়, যা পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়।
চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এসব সিদ্ধান্ত আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর ০.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এতে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রপ্তানি খাতে প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে প্যাকেজ ভ্যাট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ছোট দোকান ও মুদি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসে ১ হাজার টাকা (বছরে ১২ হাজার টাকা) হারে ভ্যাট আদায় করা হতে পারে।
ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করে বিআইএন (ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর) নেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
একই সঙ্গে পাস্তা, ফলের রস, আইসক্রিম, সফট ড্রিংকস, প্রসাধনী, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলসহ বিভিন্ন পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি আমদানি শুল্কেও কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা চলছে।
তবে এলডিসি উত্তরণের শর্ত অনুযায়ী কিছু পণ্যের শুল্ক হার কমানো হতে পারে। অন্যদিকে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ওপর ধোঁয়াবিহীন তামাকের মতো শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

