ফিফা বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তুরস্কে প্রশিক্ষণ শিবির করতে যাচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। আগামী সোমবার দলটি আনতালিয়া–এর উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে অনুশীলনের পাশাপাশি একাধিক প্রীতি ম্যাচও খেলবে দলটি।
শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের কোচ আমির গালেনোই। তিনি জানান, এবারের ক্যাম্পে ৩০ জন খেলোয়াড় থাকবেন, যেখান থেকে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ২৬ জনকে নেওয়া হবে। ফলে চারজনকে বাদ দিতে হবে।
দলের অন্যতম পরিচিত তারকা ৩৩ বছর বয়সী মেহদি তারেমি, যিনি বর্তমানে অলিম্পিয়াকোস–এ খেলছেন, তিনিও শিবিরে আছেন। কোচ গালেনোই বলেন, “৩০ জনকে বেছে নেওয়া আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি।”
আনতালিয়ায় ইরান দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২৯ মে গাম্বিয়া জাতীয় ফুটবল দল–এর বিপক্ষে একটি ম্যাচ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী স্যাম মেহদিজাদেহ, যিনি দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ১৯৮০ সাল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় খেলোয়াড়দের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, এখনো কোনো ভিসা ইস্যু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের আঙুলের ছাপ দিতে হবে, তবে দূরত্ব ও নিরাপত্তাজনিত কারণে দল আঙ্কারা যাওয়া-আসা করতে চায় না। এ বিষয়ে তিনি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো–এর সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনার কথাও জানান।
চলমান পরিস্থিতিতে ইরান দলের নিরাপত্তা নিয়ে ফিফা–এর আশ্বাস চায় তেহরান। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন এবং ফিফার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে ইরানি প্রতিনিধি দল।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর ইরান দল তুসান, অ্যারিজোনা–এ তাদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে। গ্রুপ ‘জি’–তে ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন নিউজিল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল–এর বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর একই শহরে বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দল এবং মিসর জাতীয় ফুটবল দল–এর বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

